সমাজ ব্যবস্থা।

সমাজ ব্যবস্থার ভুমিকাঃ- ————————————— ★★ ঈমান মুসলমান হওয়া কিংবা ইসলাম গ্রহণ করার পূর্ব শর্ত। ঈমান অর্থ বিশ্বাস বা প্রত্যয়। শরয়ী পরিভাষায় ঈমানের অর্থ হলো আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ) সম্পর্কে অন্তরে বিশ্বাস রেখে মুখে স্বীকার করে আল্লাহ ও রাসূলের (সঃ) কথা অনুযায়ী আমল বা কাজ করা। তাই প্রকৃত ঈমানদার তো সেই, যে বিশ্বাস অনুযায়ী আমল করে। অর্থাৎ জীবনের সকল ক্ষেত্রে ঈমান ও আকিদার ভিত্তিতে ইসলামের বিধি নিষেধ মেনে চলা। কুর’আন মজীদে বার বার নাজাত ও সাফল্যের কথা বলা হয়েছে তাদেরই জন্যে, যারা ঈমান আনার সাথে সাথে আমলে ছালেহ করে অর্থাৎ ইসলামের বিধি নিষেধ মেনে চলে। আমল বস্তুত দু’ভাগে বিভক্তঃ–
১) ব্যক্তিগত আমল। অর্থাৎ যে সব কাজ ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। যেমন পাক-পবিত্রতা অর্জন করা, নামায-রোজা, হজ্ব যাকাত আদায় করা। সুন্নাতের অনুসরণ করা।
২) সমষ্টিগত বা সমাজের সাথে সম্পর্কিত আমল। অর্থাৎ যা সব কাজ নিজে নিজে বা এক পক্ষের দ্বারা সম্ভব নয় বরং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আর একজন বা অপরপক্ষের সাথে অতপ্রোতভাবে জরিত। যেমন আয়/উপার্জন। ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষেত-খামার, শিল্প-কারখানা, অফিস-আদালত, শালিশ/বিচার, শাসন-প্রশাসন, শিক্ষা/সংস্কৃতি ইত্যাদি। এ সব ক্ষেত্রে ঈমান ও আকিদা অনুযায়ী ইসলামের বিধি নিষেদ মেনে চলতে হলে সমাজে ব্যবস্থা ইসলামের অনুকূলে হওয়া নেহায়েত প্রয়োজন, অন্যথায় সম্ভব নয়। মূলত যে সমাজ সুদ ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা এবং ঘুষ ভিত্তিক প্রশাসন, ধর্ম নিরেপেক্ষ ভিত্তিক শিক্ষা সংস্কৃতি ও মানব রচিতা মনগড়া শাসনের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেখানে কোন ইমানদারের পক্ষে তার ঈমান অনুযায়ী আমল করা অসম্ভব। তাই পবিত্র আল কুর’আনে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তাগিদ দেয়া রয়েছে সর্বাধিক। কারণ ইসলাম নিছক কোন ধর্ম নয়, বরং ইসলাম পূর্ণাঙ্গ এবং ভারসাম্য পূর্ণ একটি জীবন বিধান। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থাকে আল কুর’আনের পরিভাষায় বলা হয়েছে খিলাফত। মূলত সৃষ্টি গত ভাবেই মানুষ আল্লাহর খলীফা।স্মরণ কর সে সময়ের কথা ও মরণের পরের জীবনের কথা। “যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদেরকে বলেছিল আমি দুনিয়াতে আমার খলীফা নিযুক্ত করবো। (সূরা আল-বাকারাঃ ৩০)।
মানুষের জীবনে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে খলীফা এবং খিলাফতের ব্যবস্থা আল্লাহ তায়ালার একটি স্থায়ী কর্মনীতি। তিনি (আল্লাহ) তো তোমাদেরকে যমীনে খলীফা নিয়োজিত করেন। তাই যুগে যুগে প্রত্যেক নবী-রাসূলগণকে তাদের জাতির উপর খলীফা করে পাঠিয়েছেন। যাতে তাদের উপর খিলাফত কায়েম করা যায়। এ ধারাবাহিকতায় হযরত দাঊদ(আঃ) কে ও আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,হে দাঊদ! আমি তোমাকে যমীনে খলীফা নিয়োগ করেছি। অতএব “তুমি লোকদের মধ্যে সত্য সহকারে শাসন পরিচালনা কর এবং নফসের খায়েশ এর অনুসরণ করো না। এমন করলে কিন্তু তোমাকে আল্লাহর পথ হতে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। (সূরা ছোয়াদ-২৬)।
এ ভাবে সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সঃ) এবং তার উম্মতকেও পৃথিবীতে খলীফা করেছেন, যাতে আল্লাহর বিধান কার্যকর করা হয়।
“অতঃপর তাদের (পূর্ববর্তী নবী রাসূল ও তাদের উম্মতগনের) পরে আমি তোমাদেরকে যমীনে খলীফা করেছি। (সূরা ইউনুছ-১৪)।
পবিত্র আল কুর’আন মানুষের প্রতি যে দাওয়াত পেশ করেছে তন্মধ্যে তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত ও খিলাফত এ ৪টি হল দাওয়াত। এ মূল দাওয়াত গুলোর মধ্যে খিলাফত এমন একটি বিষয় যাকে বাদ দিলে মুসলমানের কর্তব্য হল তার ঈমান অনুযায়ী জীবন যাপন করা। আর এ জন্যে প্রয়োজন অনুকূল পরিবেশ। তবে এ পরিবেশ সৃষ্টি করে থাকে এক মাত্র খিলাফত বা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা। মানুষের জন্য সৎ পথের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয় আর অসৎ পথের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যাদের হাতে সামাজিক পরিবেশ দূষিত হয়ে আছে, তাদেরকে সংশোধন কিংবা অপসারণ করা ব্যতীত ঈমানের উপর অটল থাকা কিংবা ঈমান অনুযায়ী আমল করা কোনটাই সম্ভব নয়। এ কারণে কোন নবী রাসূলই তাদের দাবীতে কারো সাথে কোন সময় আপোষ করেন নি। নবী রাসূলগণের প্রত্যেকের সাধারণ দাওয়াত ছিল “ইবাদত বা আনুগত্য হবে একমাত্র আল্লাহর” এবং “সৃষ্টি যার, আইন চলবেও তার।” পক্ষান্তরে বেঈমান বে-আমল শাসক গোষ্ঠী যাদেরকে শাসন করে, তারা মানুষে শাসনতান্ত্রিক ভাবে তাদের গোলামে পরিণত করে। মানুষের মনগড়া আইন দিয়ে মানুষকে শাসন করা হলে, সেখানে মানুষ আল্লাহর আনুগত্য বা তার আইন মেনে চলতে পারে না। তাই প্রত্যেক নবী রাসূল ও তাদের উম্মত হল যমীনে আল্লাহর খলীফা। তারা নিজেদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মেনে চলবে এবং সমগ্র মানুষের মধ্যে তা কার্যকর করবে। রাসূল (সঃ) যে দায়িত্ব পালন কর ছিলেন, যে পথে পাড়ি জমাচ্ছিলেন, তা যে আল্লাহরই পক্ষ থেকে অর্পিত, সে বিষয়ে রাসূলের (সঃ) বিন্দুমাত্র সংশয় ছিলো না। এ বিষয়ে রাসূলের (সঃ) একীন ছিলো সমস্ত মানুষের উপরে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের। আমার মনে হয় সে রকম একীনের কাছাকাছিও কোন মানুষ পৌছুতে পারে না। কেন না স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তার সাথে কথা বলে ছিলেন। জিবরাইল (আঃ) তার নিকট আগমন করে ছিলেন। তার হৃদয় মুবারকের উপর অহী নাযীল হচ্ছিলো। আমাদের উম্মতের অংশতো শুধু এতোটুকুই, যা আমরা কুর’আনের এ বাক্যগুলোর প্রতি একীনের ধরন থেকে লাভ করি। এ-ই যথেষ্ট। আমরা যে তা হুবুহু লাভ করতে পারি।
“আর এ ভাবেই আমি তোমাদের (মুসলমানদের) কে একটি মাধ্যম পন্থানুসারী উম্মত বানিয়েছি, যেনো তোমরা দুনিয়ার লোকদের জন্য সাক্ষী হও।” – সূরা আল বাকারাঃ ১৪৩।
“হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও।” –(সূরা আস সফঃ-১৪)।
“তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ দিতে প্রস্তুত? তাহলে আল্লাহ তাকে কয়েকগুণ বেশি ফিরিয়ে দেবেন।”-(সূরা আল বাকারাঃ-২৪৫)।
কুর’আন মজীদে যে সব স্থানে নবী (সঃ) কে সম্বোধন করে (তুমি সন্দেহ পোষণকারী হয়ো না) বলা হয়েছে, সে সব স্থানে সম্বোধনের অন্তরালে বিরুদ্ধবাদীদের প্রতিই রাগ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s