কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন ও তার জওয়াব*


👉 ১. মানুষ কি?
উঃ মানুষ হোমো সাপিয়েন্স জাতের প্রাণী। তার বুদ্ধি, জ্ঞান ও বিবেক আছে বলেই সে হোমো সাপিয়েন্স জাতের প্রাণী হিসেবে স্বকৃত হয়েছে।
👉 ২. মানুষের মৌলিক বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা কিরূপ হওয়া প্রয়োজন?
উঃ সৃষ্টির স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। আরবীতে এর নাম তাওহীদ তথা একত্ববাদ, ইংরেজীতে (monotheism)(মোনোথিজম) ও oneness (ওয়ান্নেস) হয়ে থাকে।
👉 ৩. তাওহীদের মূলমন্ত্র কি?
উঃ তাওহীদের মূলমন্ত্রঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থাৎ মহান আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আদী থেকে অন্ত পর্যন্ত এটিই তাওহীদের মূলমন্ত্র। কখনোও এটি পরিবর্তন যোগ্য নয়।
👉 ৪, মহান আল্লাহর মাহাত্ত্ব্য কি?
উঃ মহান আল্লাহর মাহাত্ত্ব্য হচ্ছে-
(১) মহান আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী ও তন্মমধ্যস্থিত সকল কিছু এবং এসব কিছু পরিচালনার জন্য র্আশু-ল আজীম সৃষ্টি করেছেন। মানুষ এর মধ্যে একমাত্র সর্বশ্রেষ্ট সৃষ্টি এবং অন্য সকল কিছু কেবল মাত্র তারই জন্য।
(২) ফিরিশতারাজী মহান আল্লাহর নূরের এক অতুলনীয় সৃষ্টি। এরা মানবীয় গুণাবলী মুক্ত ও মহা শক্তির অধিকারী।
(৩) যিন জাতি মহান আল্লাহর একটি অপূর্ব সৃষ্টি।
(৪) মহান আল্লাহ মানুষ ও যিন জাতির চিরস্থায়ী গন্তব্য স্থান হিসেবে পরকালে যান্নাত ও যাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন।
👉 ৫. মানুষের করনীয় কি?
মানুষের করনীয়ঃ মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা ও তাঁর ইবাদাতে মশগুল রেখে নিজেকে তাওহীদ তথা একত্ববাদীরূপে প্রতিষ্ঠা করা।
👉 ৬. একজন তাওহীদবাদীর কি কি করা আবশ্যক?
উঃ তাওহীদবাদীর যা যা করা আবশ্যক ঃ
(১) মহান আল্লাহর প্রেরিত কিতাব আল কুরআনকে সংবিধান হিসেবে মান্য করা ও তা সর্বময় প্রতিষ্ঠা করতে স্বচেষ্ট থাকা।
(২) যুগে যুগে আল্লাহর প্রেরিত রাসুলদের প্রতি ঈমান রাখা ও সর্বশেষ রাসূল হাদ্বরাত মুহাম্মাদ (সা) এর প্রতি বিশ্বাস ও তাঁর রিসালাত প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা।
(৩) মহান আল্লাহকে রাজী খুশী করতে সালাত আদায় করা ও তা ক্বায়িম করা।
(৪) মহান আল্লাহকে ‘রব’ তথা প্রতিপালনকারী হিসেবে জ্ঞান করা।
(৫) সৃষ্টিজীবের রিঝক্বদাতা হিসেবে মহান আল্লাহকে মান্য করা।
(৬) বিচার দিবস তথা ক্বিয়ামাতের দিন মানুষের কৃতকর্মের বিচার অনুষ্ঠানের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে চলা।
(৭) কুফরী তথা আল্লাহর অ¯^ীকারের পর্যায় পড়ে এমন কর্মকাণ্ড বর্জন করা।
(৮) কাজে-কর্মে, বাণী-বক্তৃতায় ও আচার-আচরণে শিরক পরিহার করা।
(৯) নিফাক্বী তথা মুখে এক এবং অন্তরে এর বিপরিত নীতি বর্জন করা।
(১০) কাবীরাহ গোনাহ তথা সুদ, ঘুস, ব্যভিচার, জুল্ম, হত্যা ধরেনর সকল অন্যায় কর্ম থেকে দূরে থাকা।
(১১) দাওয়াতী ইলাল্লাহ ও ইসলাম প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করা।
👉 ৭. তাওহীদের একনিষ্ঠ অনুসারী হলে এর কি ফলাফল রয়েছে?
উঃ তাওহীদের একনিষ্ঠ অনুসারী হলে এর যে ফলাফল রয়েছে তা হল-
(১) মানুষ হিসেবে প্রকৃত সত্য গ্রহণ করতে ও নিজেকে ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হওয়া।
(২) সমাজে সুন্দর ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা।
(৩) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাজী-খুশী অর্জিত হওয়া এবং করোনার মত সকল গজব থেকে মুক্ত থাকা।
(৪) ইহকালীন তথা পার্থিব জীবনে শান্তি ও কল্যাণ হাছিল হওয়া।
(৫) পরকালীন মুক্তি ও সফলতার অধিকারী হওয়া।
(৬) বিনা হিসেবে ভয়ানক যাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে নিআমাত পূর্ণ যান্নাতের অধিকারী হওয়া।
(৭) সর্বশেষ মহান আল্লাহর দিদার পেয়ে চির ধন্য হওয়া।
👉 ৮, তাওহীদের পরিপন্থী হলে তার কি কি কুফল রয়েছে?
উঃ তাহীদের পরিপন্থী হলে তার কুফল সমূহ নিম্নরূপ-
(১) নিজেকে মনুষ্যত্ব থেকে অপসারিত করে মিথ্যা ও অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠা করা।
(২) নিজেকে জালিম তথা অন্যায়কারী রূপে সাব্যস্ত করা।
(৩) মহান আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত হওয়া এবং করোনার মত ক্রমাগত ভয়াবহ বিপদ-আপদে নিপতিত হওয়ার উপযুক্ত হওয়া।
(৪) পার্থিব জীবনে সকল অশান্তি ও অকল্যাণ চেপে বসা।
(৫) পরকালীন ভয়ংকর আজাব-গজবে নিপতিত হওয়া।
(৬) যান্নাত থেকে চির বঞ্চিত হয়ে ভয়ানক যাহান্নামের অধিবাসী হওয়া।
(৭) মহান আল্লাহর দিদার বঞ্চিত হয়ে পিড়াদায়ক যাহন্নামে অনন্তকাল ব্যাপী পড়ে থাকা। লিখক মোঃ ইমরান খাঁন

লাইলাহা ইল্লাল্লাহ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s