ফরয নামাজের।

নামাযের পরে যদি দুআ করা হয় তবে ক্ষতি কি 👉 মানুষের প্রকৃতি হল চাওয়া। তাইতো সে জন্মের পরেই মহা আর্তনাদের মাধ্যমে আপন ক্ষুধা নিবারণে খাদ্যের আহাজারী করেছিল। এরপর সে তার প্রয়োজন মিটাতে জীবনভর কারো না কারো কাছে চাইতেই থাকবে। কখনো মায়ের কাছে, কখনো বাপের কাছে, আবার কখনো লিডারের কাছে। তার চাওয়ার কোন বিরাম নেই। মহান আল্লাহর ইচ্ছা যে, সে তার সকল বিষয়ে কেবল তাঁকে উদ্ধেশ্য করেই চাইবে। কখনো খাবার, কখনো সুস্থাতা, কখনো আড়ম্ভরতা, আবার কখনো জান্নাত ইত্যাদী।
👉 মানুষের চাওয়ার মাধ্যম হচ্ছে- মুখ, হাত, চোখ ও মাথার ভাষা ও আবেগ। মহান আল্লাহর কাছে বান্দাহর চাওয়া বা আকুতির আরবী শব্দরূপ হচ্ছে- দুআ বলে। সুতরাং মানুষের কাছ থেকে আমাদের প্রাপ্তির পরিভাষা হচ্ছে চাওয়া আর আল্লাহর কাছে থেকে পাওয়ার পরিভাষা হচ্ছে দুআ।
প্রিয় ভাই!
👉 আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে “ফরজ নামাজের পর যদি দুআ করা হয় তবে ক্ষতি কি? বিষয় নিয়ে। আসুন, সে বিষয়ে আমরা সামনের দিকে গভীর ভাবে নজর করি।
👉 দুআর পরিচিতিঃ
বান্দাহ্-র প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ, আপতিত বিপদ-মুছিবাত থেকে পরিত্রাণ এবং মনের সকল চাহিদার পূর্ণতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিনয়ের সাথে প্রার্থনা করাকে দুআ বলে।
👉 দুআর প্রকারভেদঃ
দুআ দুই প্রকারের হয়ে থাকে। যথা (১) দুআ ইবাদাতঃ দুখ-দুরদশা লাঘব এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ ভাবে তাঁর ইবাদাত পালন করার মাধ্যমে আল্লাহকে আহব্বান করাকে দুআ ইবাদাত বলে। যেমন নামায, রোজা, হজ্ব, ঝাকাত। (২) দুআ মাসালাহ্ঃ কল্যাণ হাছিল ও দুঃখ- দুর্দশা দূর করতে সহায়ক হয় মহান আল্লাহকে বান্দহ্র এমন আহŸানের নাম দুআ মাসআলাহ্। যেমন- অসুখ হলে শেফা কামনা, ক্ষুদা ও তৃষ্ণা মিটাতে প্রার্থনা, আজান শেষে প্রার্থনা ইত্যাদী।
👉 দুআর হুকুমঃ
দুআ ইবাদাত ফরজ। মহান আল্লাহ নিজেই এর সময়, নিয়ম-কানুন এবং সার্বিক পন্থা বলেদেন। এর বাইরে বন্দাহ্র কিছু বলা-কওয়ার নেই। দুআ মানআলাহ্ নফল ও সুন্নাত পর্যায়ের হয়ে থাকে। এর কোন বাধা ধরা সময় ও নিয়ম নেই। বরং সব সময় বান্দাহ তার মুনিবের দারস্থ হবে বলে এতে পাক-সাপ হয়ে নেওয়ারও কোন শর্ত করা হয়নি। মহান আল্লাহ কখনো এর পন্থা সরাসরি বলেছেন, কখনো ইনডাইরেক্টলি, আবার কোন কোন বিষয়ে কিছু বলে দেননি। বরং বান্দাহ নিজে নিজের মত করে যখন তাঁকে ডাকতে চায় তখনই অনায়েশে তাঁকে ডাকার সুযোগ দিয়ে রেখেছেন।
👉 এবার আসুন শিরনামের বিষয়ে “নামাযের পরে যদি দুআ করা হয় তবে ক্ষতি কি?” নিয়ে আলোচনা করা যাক। ফরজ নামায বা অন্য সকল নামাযের শেষে দুআ করা এটি দুআ মাসআলাহ্ এর অন্তর্গত ইবাদাত। বান্দাহ্ এটি নামায শেষে বা যেকোন সময় করার অধিকার রাখে। এমনকি পায়খানায় প্রবেশ করার সময়, কিংবা পায়খানা থেকে বের হয়ে, এমনকি তার যখন প্রয়োজন ও ইচ্ছা হয় তখনই তা করতে পারবে। কোন একটা বিষয়ে চুড়ান্ত ফায়সালা থাকলে সে বিষয়ে বার বার বলা যেমন নিস্প্রয়োজন, আবার তা জানতে চাওয়াও বাড়াবাড়ির শামীল। এটা স্বীকৃত বিষয় হওয়ায় এর উপর দলীল চাওয়া কোন জ্ঞানী বা বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাজ নয়। যেমন- আল্লাহর নবী (সা)-এর কাছে কত মানুষ কত কিছু জানতে চায়, প্রশ্ন করে। এক ব্যক্তি কোন প্রশ্ন খুঁজে পায় না। এরই মধ্যে সে প্রশ্ন করে বসল, হুজুর! বলুন তো, আমার আব্বাকে? বলেন, এটাকি কোন প্রশ্ন হল? কাজেই নামায শেষে দুআ করার বিষয়ে প্রশ্নকারীরা এরূপ নয় কি? সকলে নিশ্চিত জেনে রাখুন, দুআ মাসআলাহ্ যত বেশি করবেন মহান আল্লাহ আপনার উপর তত বেশি খুশি হবেন। কাজেই এতে কারো মাসআলাহ বলার সুযোগ নাই।
এবারে আমরা বিষয়টি নিয়ে কুরআনের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করি। মহান আল্লাহর ঘোষণাঃ
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ [٦٠]
অর্থঃ- তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তাতে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদাতে অহংকার করে তারা সত্বরই যাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে। (সূরাহ্-৪০, গাফির-৬০)
هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ فَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ۗ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ [٦٥]
অর্থঃ- তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি ইবাদাতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহরই। (সূরাহ্-৪০, গাফির-৬৫)
وَلِلّٰهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ [١٨٠]
অর্থঃ- আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরে তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে। (সূরাহ্-৭, গাফির-১৮০)
এবারে আমরা বিশ্বনাবী (সা)-র হাদীসের প্রতি নজর করি। আর তা হলঃ
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ “لَيْسَ شَئٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ مِنَ الدُّعَاءِ -“
অর্থঃ- হযরত আবূ হুরায়রাহ্ (রা) বলেন, নাবী কারীম (সা) বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট দুআর চেয়ে সম্মানিত বস্তু আর কিছুই হয় না। (আদাবু-ল মুফরাদ-৭১৭। এটি ইমাম বুখারীর অন্য একটি গ্রন্থ)
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ “اَشْرَفُ الْعِبَادَةِ الدُّعَاءُ -“
অর্থঃ- উক্ত রাবী হযরত আবূ হুরায়রাহ্ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, নাবী কারীম (সা) বলেছেনঃ দুআ হচ্ছে সবচেয়ে সম্মানিত ‘ইবাদাত। (আদাবু-ল মুফরাদ-৭১৮)
عَنِ النُّعْمَانَ بْنِ بَشِيْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ : اِنَّ الدُّعَاءَ هُوَ الْعِبَادَةُ “ثُمَّ قَرَاَ (اُدْعُوْنِىْ اَسْتَجِبْ لَكُمْ)
অর্থঃ- হযরত নুমান ইবনি বাশীর (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী কারীম (সা) বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে দুআই হচ্ছে ইবাদাত। অতঃপর তিনি কুরআন শারীফের আয়াতে কারীমাহ্ আবৃত্তি করলেনঃ اُدْعُوْنِىْ اَسْتَجِبْ لَكُمْ “আমার কাছে দুআ কর। আমি তোমাদের দুআ কবূল করব।” (সূরাহ্-৪, নিসা-৬০) (আবূ-দাঊদ, তিরমিজি, আদাবু-ল মুফরাদ-৭১৯, রিয়াদু-স সালিহীন-১৪৬৫)
عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سُئِلَ النَّبِىُّ ﷺ اَىُّ الْعِبَادَةِ اَفْضَلُ ؟ قَالَ دُعَاءُ الْمَرْءِ لِنَفْسِه –
অর্থঃ- হযরত আয়িশাহ্ (রা) বলেন, নাবী কারীম (সা)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, সর্বোত্তম ইবাদাত কি? তিনি বললেনঃ মানুষের নিজের জন্য কৃত দুআ। (আদাবু-ল মুফরাদ-৭২০)
মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এটিও দুআ মাসআলাহ্র অন্তর্ভুক্ত। আর এর ফাদ্বীলাত সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহ) স্বীয় গ্রন্থ ‘বুখারী শারীফ’-এ নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদটি এভাবে দাঁড় করিয়েছেনঃ
۲٦١٥ بَابُ اَفْضَلُ الْاِسْتِغْفَارِ قَوْلِهِ تَعَاليٰ فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا [١٠] يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا [١١] وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا [١٢] وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللّٰهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللّٰهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ [١٣٥]
অর্থঃ- ২৬১৫ পরিচ্ছেদঃ দুআ হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম ইস্তিগফার। আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন। (সূরা-৭১, নূ‘হ-১০-১২) তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুল্ম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না। (সূরাহ-৩, আলি-ইমরান-১৩৫) অতঃপর তিনি এর অনুকুলে যে হাদীছটি উপস্থাপন করেছেন তা উপরোক্ত বক্তব্যকে আরো বেশি সুদৃঢ় করে থাকে। যেমন বিশ্বনাবী (সা)-এর বাণীঃ
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ وَاللهِ اِنِّىْ لَأَسْتَغْفِرُ اللهَ أَتُوْبُ فِىْ الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً –
অর্থঃ হযরত আবূ হুরায়রাহ্ (রা) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি ঃ আল্লাহর কসম! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার ও তাওবাহ্ করে থাকি। (বুখারী-৫৮৬৮)
عَنْ نَافِعٍ عَنْ اِبنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : اِنِّىْ لَاَدْعُوْ فِىْ كُلِّ شَىْءٍ مِنْ اَمْرِىْ حَتَّى اَنْ يَّفْسَحَ اللهُ فِىْ مَشْىِ دَابَّتِىْ حَتَّى ارٰى مِنْ ذٰلِكَ مَا يَسُرُّنِىْ –
অর্থঃ- হযরত নাফি (রহ) বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনি উমার (রা) বলেছেনঃ আমি তো আমার প্রত্যেক ব্যাপারেই দুআ করে থাকি, এমন কি আমার বাহন জন্তুকে দ্রুত গতিসম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য আমি দুআ করে থাকি। এর যে ফল আমি প্রত্যক্ষ করি তাতে আমার আনন্দই হয়। (আদাবু-ল মুফরাদ-৬৩২)
عَنْ مُغِيْرَةَ اِلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِىْ سُفْيَانَ أَنً رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَقُوْلُ فِىْ دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ اِذَا سَلَّمَ لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ اللِّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجِدِّ مِنْكَ الْجِدُّ وَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُوْرٍ قَالَ سَمِعْتُ الْمُسَيَّبَ –
অর্থঃ- হযরত মুগীরাহ্ ইবনি শুবাহ্ (রা) আবূ সুফিইয়ানের পুত্র মুআবিয়াহ্ (রা)-এর নিকট এক পত্রে লিখেন যে, নিশ্চয়ই নাবী কারীম (সা) প্রত্যেক সালাতে সালাম ফিরানোর পর প্রার্থনা করতেনঃ
لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ اللِّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجِدِّ مِنْكَ الْجِدُّ-
“আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই। তিনি একাই মাবূদ। তাঁর কোন শারীক নেই। সাম্রাজ্য তাঁরই, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। ইয়া আল্লাহ! আপনি কাউকে যা দান করেন তাতে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আর আপনি যাকে কোন কিছু দিতে বিরত থাকেন তাকেও তা দেওয়ার মতো কেউ নেই। আপনার রহমাত না হলে কারো চেষ্টাই ফলপ্রসূ হবে না।” (বুখারী-৫৮৯১)
عَنْ مُحَمَّدِ بن أَبِى يَحْيَى ، قَالَ : رَأْيَتُ عَبْدَ اللهِ بن الزُّبَيْرِ ، وَرَأَى رَجُلًا رَافِعَا يَدَيْهِ يَدْعُو قَبْلَ أَنْ يَفْرَغَ مِنْ صَلاِتِهِ ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهَا ، قَالَ : “اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعُ يَدَيْهِ ، حَتَّى يَفْرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ –
অর্থঃ- হযরত মুহাম্মাদ বিন আবী ইয়াহইয়া বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনি ঝুবাইর (রা)-কে দেখলাম, তিনি এক ব্যক্তিকে সালাত শেষ করার পূর্বেই দুহাত উঠিয়ে দুআ করতে দেখে বললেন, রাসূলুল্লাহ (স) কখনো সালাত থেকে ফারিগ না হয়ে দু’হাত উঠাতেন না। অর্থাৎ সালাত শেষ করে তবেই দু’হাত তুলে দুআ করতেন।
(মাযমাউ-ঝ ঝাওয়ায়িদ, দারু-ল ফিকর, বৈরুত, লেবানন, খণ্ড-১০, পৃ-২৬৬, হাদীছ নং ১৭৩৪৫; মুযামু-ল কাবীর লি-ত তাবারানী, পৃ-২২, খ-১১)
عَنْ اَبِى اُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قِيْلَ لِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ اَىُّ الدُّعَاءِ اَسْمَعُ ؟ قَالَ : جَوْفُ اللَّيْلِ الْاٰخِرِ وَدُبُرِ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوْبَاتِ – رواه الترمذى وقال حديث حسن –
অর্থঃ- হযরত আবূ উমামাহ্ (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম (সা)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হলোঃ কোন্ সময়টায় দুআ বেশি কবূল হয়? তিনি বলেন, শেষ রাতের মাঝামাঝি এবং ফারজ সালাতের অব্যবহিত পর। (তিরমিজী, রিয়াদু-স সালিহীন-১৫০০)
👉 সারকথাঃ
ফরজ সালাতের অব্যবহিত পরে হাত তুলে দুআ করায় ক্ষতি নাই। বরং যারা করে তারা নিশ্চয়ই লাভবান হবে। আর যারা ভুল বুঝে মানুষকে বিরত রাখতে স্বচেষ্ট হয়, তাদেরকে তা না করতে বিরত হতে হবে। ধন্যবাদ সকলকে।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s