শুধ হারাম।

সুদখোররা আল্লাহর সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেও

প্রিয়বন্ধু!!
. আস্-সালামু আলাইকুম। আজকের আলোচনায় শেয়ার করে শরীআতের একটা বিধান একে অপরকে জানাতে সহযোগিতা করুন। সেটা হচ্ছে “সুদ”। আমরা সকলে জেনে রাখি সুদ সবচেয়ে বড় একটা কাবীরা গুনাহ। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা)-এর প্রতি কঠিনতর ঘৃণা, ভয়ানক শাস্তি এবং সুদখোরকে তাঁর সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নিতে বলেছেন। আসুন, এমন ভয়ানক গোনাহ নিয়ে কিছু আলোচনা করি।
সূদের পরিচিতিঃ
আভিধানিক অর্থ- “গৃহীত ঋণের পরিমাণের উপর যে মূল্য নেওয়া হয়, বৃদ্ধি, কুসীদ।” পরিভাষায়- সুদ এমন এক বর্ধিত অংকের নাম, যা ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে একটি স্থিরকৃত হার অনুযায়ী মূল অর্থের বাইরে আদায় করে থাকে তাকে শরীআতের পরিভাষায় সুদ বলে।
সুদ ইহুদীদের যাতা কলঃ
ইসলাম পূর্ব জাহিলিয়াতে আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় ছিল। সম্পদশালীরা বিশেষতঃ ইহুদীরা সুদের ব্যবসায় নিয়োজিত ছিল। এরা কৃষিজীবী, ব্যবসায়ী, কারিগর, এবং বেদুইন তথা লুট-তরাজ ও পশুপালন কোন কর্মই করত না; বরং সুদের কারবার–ই ছিল তাদের পেশা। গরীব লোকেরা জীবন ধারণের নানাবিধ প্রয়োজনে তাদের থেকে অধিক সুদে অর্থ গ্রহণ করত। সময়ের ব্যবধানে ঋণ গ্রহণকারীরা একপর্যায় সর্বশান্ত হয়ে যেত। কোন কোন সময় ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং বিত্ত-সম্পত্তি সুদখোরদের দখলে চলে যেত। তাজা মানুষের গায়ের গোশত কেটে নেয়ার এমন করুণ ঘটনাও সেখানে অহরহ ঘটে থাকত। সমাজে শৃংখলা নষ্টে বেদুইনরা যে হারে সর্বনাশ করেছে, এ শ্রেণীর মানুষেরা সর্বনাশ করেছে তার তুলনায় অনেক গুণ বেশী।
সুদখোরেরা জোঁকের থেকে ভয়ংকরঃ
জোঁক রক্তপায়ী কৃমি বিশেষের নাম। ক্ষেত-খামার ও জলাশয়ে এদের বসবাস। ধনীদের যেহেতু ক্ষেত-খামারে ও জলাশয়ে নামতে হয় না। সেহেতু ধনীরা সব সময় জোঁকের নাগালের বাইরে থাকে। সে কারণে জোঁক গরীবের রক্তই শোষণ করে। তবে এরা জোঁকের থেকে ভয়ংকর একারণে যে, জোঁকের ন্যায় এদেরকে আছড়ে মারা যায় না। সেদিক থেকে এরা মাসুষখেকো বাঘ/সিংহ-ই বটে।
সূদ সম্পর্কে ইসলামী বিধানঃ
(১) হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং লোকদের কাছে তোমাদের যে সুদ বকেয়া রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও যদি মুমিন হয়ে থাক। (সূরা- ২, বাক্বারাহ- ২৭৮)
(২) আল্লাহ তো বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। (সূরা- ২, বাক্বারাহ- ২৭৫)
(৩) যারা সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তাতে লিপ্ত হবে তারাই যাহান্নামের অধিবাসী। তন্মধ্যে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। (সূরা- ২, বাক্বারাহ- ২৭৫)
(৪) নিশ্চয়ই যারা সুদ খায় তারা তো সে ব্যক্তির মত ছাড়া উঠে দাঁড়াতে পারবে না যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা উন্মাদ করে রেখেছে। (সূরা- ২, বাক্বারাহ- ২৭৫)
(৫) আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। (সূরা- ২, বাক্বারাহ- ২৭৬)
(৬) আর যদি তা না ছাড়ো তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নাও। (সূরা- ২, বাক্বারাহ- ২৭৯)
(৭) তোমরা এক দীনারের (স্বর্ণ মুদ্রা) বিনিময়ে দুই দীনার এবং এক দিরহামের (রৌপ্য মুদ্রা) বিনিময়ে দুই দিরহাম কেনা-বেচা করো না। (মুসলিম-৩৯১২)
(৮) সুদ প্রদানকারী, সুদ চুক্তি লেখক এবং সুদি কারবারের সাক্ষী সবাইকে অভিসম্পাত দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী। (মুসলিমঃ বাবু লা‘আনি আকলির রিবা ওয়া মুকিলিহি, ২৯৯৫)
(৯) সুদের রয়েছে সত্তর প্রকার গুনাহ। তার মধ্যে সবচেয়ে নিম্নতম হল, আপন মায়ের সাথে ব্যাভিচার করা। (ইবনে মাজাহঃ বাবুত তাগলিজি ফির রিবা, ২২৬৫)
(১০) যে ব্যক্তি জেনে বুঝে এক দিরহাম সুদ গ্রহণ করল, সে ছত্রিশ বার যিনা করার চাইতেও বড় অপরাধ করল। (আহমদঃ হাদীসু আব্দুল্লাহিবনে হানযালা, ২০৯৫১)
উপসংহারঃ নিসন্দেহে মহান আল্লাহ সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। সুতরাং কোন মুমিন কোন প্রকারেই সুদের সাথে জড়িতে হবেন না। আজ সমগ্র পৃথিবী সুদের কারেন্ট জালে আবদ্ধ। সরকারী ছত্রছায়ায়ই তা সকলকে গ্রাস করে ফেলেছে। এ মুহূর্তে নিজেকে রক্ষা করতে না পারলে যাহান্নাম ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না। মহান আল্লাহ মুমিনকে সুদ থেকে আত্মরক্ষা করার উপযুক্ত ঈমানী কুয়াত দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s